পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে জমিতে খুঁটি | sonamati.com

বোরো চাষাবাদের সুফল নিশ্চিতে পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় চলতি মৌসুমে ৪৭ হাজার একর জমিতে স্থাপন করা হচ্ছে ১১ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ খুঁটি।

‘পার্চিং’ পদ্ধতির অংশ হিসেবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব খুঁটি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হলে প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে জমির ফসল রক্ষার মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের দিকনিদের্শনায় তিন বছর আগে এই পদ্ধতির আওতায় ধানক্ষেতের পুরোভাগে গাছের ডালপালা ও বাঁশের খুঁটি স্থাপনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রমটির সূচনা করা হয়। এরপর থেকে পার্চিং পদ্ধতিতে খুঁটি স্থাপনের এই কার্যক্রমটি কৃষকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

পার্চিং পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেন উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন।

উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘জমিতে বসানো খুঁটিতে উড়ে এসে বসবে বিভিন্ন ধরনের পাখি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে এসব পাখি খেয়ে ফেলবে ক্ষেতের পোকা-মাকড়। এখানে কৃষককে বাড়তি কোনো ধরনের কাজ করতে হবে না। খুঁটিতে বসে পাখিরা আপনা-আপনি পোকা-মাকড় খেয়ে নিধনের মাধ্যমে ধানক্ষেতকে সুরক্ষা দেবে। এতে কৃষকরা আশাতীত ফলন ঘরে তুলতে পারবে।’

তিনি জানান, এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলার কৃষকরা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন।

এ কারণে এখানে প্রতিবছর পার্চিং পদ্ধতিতে খুঁটি স্থাপন কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের উন্নয়ন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত (উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা) সনজিব বড়ুয়া ও রাজীব দে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ১৮ হাজার ৭শ হেক্টর (৪৬ হাজার ৭৫০ একর জমিতে) বোরো ধানচাষ করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বোরো চাষ শুরু করা হয়। গেল ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে আরো অধিক পরিমাণ জমিতে চাষ শেষ করা হয়েছে।

তাঁরা বলেন, বর্তমানে রোপণকৃত বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় ধানক্ষেতের সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রতিবছরের মতো এবারও উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পার্চিং পদ্ধতিতে খুঁটি স্থাপনের কাজ করা হয়েছে। উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পার্চিং উৎসব উদ্বোধন করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুশান্ত সাহা।

জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বোরো ধান রোপণের আগে জমি তৈরি, তারপর রোপণ এবং সর্বশেষ রোপণকৃত ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ঠেকানোর মাধ্যমে অধিক ফলন নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগে থেকে উপজেলার প্রতিটি ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদেরকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘চলতি মৌসুমে পার্চিং পদ্ধতির আওতায় ৪৭ হাজার একর জমির বোরো ধানক্ষেতে বসানো হচ্ছে ১১ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ বাঁশ ও গাছের খুঁটি। প্রতিকানি জমিতে বসবে অন্তত দশটি করে খুঁটি। যার সুফল ভোগ করবেন প্রান্তিক কৃষকেরা। এভাবে ধানক্ষেতের সুরক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে কৃষকরা ঘরে তুলবেন আশাতীত ফলন। ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনের উপস্থিতিতে পার্চিং উৎসব উদ্বোধন করা হয়েছে।

-কালের কণ্ঠ